ছাগলনাইয়ায় দাফনের ৮মাস পর শিশু গৃহপরিচারিকার লাশ উত্তোলন

ছাগলনাইয়ায় দাফনের ৮মাস পর শিশু গৃহপরিচারিকার লাশ উত্তোলন

ছাগলনাইয়া সংবাদদাতা: দাফনের ৮ মাস পর আদালতের নির্দেশে ছাগলনাইয়া উপজেলার মটুয়া কলোনী বড় কবরস্থান থেকে শিশু গৃহপরিচারিকা ফাহিমা আক্তার (১৪) এর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।বুধবার (০৩ জুলাই)দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোবায়দা আক্তার, সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আলতাফ হোসেন ও ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ডিএনএ টেস্টের জন্য লাশটি উত্তোলন করা হয়। মামলার বাদী ও নিহতের মা কোহিনুর বেগম জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবত ফেনী শহরের মিজান রোডে ওয়াহিদুর রহমানের পুত্র ওয়ালি উল্যাহর হক টাওয়ার এর নবম তলার বাসায় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছেন। একপর্যায় কোহিনুর বেগম এর ছোট মেয়ে ফাহিমা আক্তারকেও লেখাপড়া করানোর প্রতিপ্রুতি দিয়ে গৃহপরিচারিকার কাজ দেয় ওয়ালি উল্যাহর স্ত্রী। কাজে দেওয়ার পর থেকে ফাহিমাকে ওয়ালি উল্যাহ নানা কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করা শুরু করে। বিষয়টি ওয়ালি উল্যাহর স্ত্রীকে জানালে সে তার স্বামীকে গালাগাল করে এবং আর উত্যক্ত করবেনা এমন প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০১৮সালের ১৩ নভেম্বর প্রতিদিনের ন্যায় কোহিনূর বেগম গৃহপরিচারিকার কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওয়ালি উল্যাহর স্ত্রী তাকে মোবাইলে ফোন করে জানায় তার মেয়ে ফাহিমা আক্তার ফাঁসি দিয়ে মারা গেছে। কোহিনূর বেগম ও তার স্বজনরা বাসায় গিয়ে দেখেন তার মেয়ের লাশ বেলকনির গ্রীলের সাথে ঝুলে আছে। খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওয়ালি উল্যাহ ও তার স্ত্রী এবং নিহত ফাহিমার স্বজনদেরকে থানায় নিয়ে যায়। ১৪নভেম্বর পুলিশ নগদ ১৫হাজার টাকা ও ফাহিমার লাশ কোহিনূর বেগমকে দিয়ে বলে বাড়িতে নিয়ে লাশ দাফন করবি এই বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে মাদকের মামলা দিয়ে কোর্টে চালান করে দিব। অসহায় গৃহপরিচারিকা কোহিনূর ও তার স্বামী ছাগলনাইয়া পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মী নুর জামান প্রকাশ বাবুল মেয়ের লাশ দাফন করে। ২০১৯সালের ২১জানুয়ারী কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে ফেনীর নারী শিশু আদালতে কমপ্লিন মামলা নং-৩৩/১৯ দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোবায়দা আক্তার, সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আলতাফ হোসেন ও ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ডিএনএ টেস্টের জন্য ফাহিমা আক্তার এর লাশটি উত্তোলন করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোবায়দা আক্তার জানান, নিহত ফাহিমা আক্তার এর পরিবার আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করলে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতের নির্দেশে লাশটি উত্তোলন করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আলতাফ হোসেন বলেন, ডিএনএ টেস্টের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা।মামলার আইনজীবি এডভোকেট একরামুল হক ভূঁঞা বলেন, ফাহিমা আক্তারকে নির্যাতন শেষে হত্যা করে লাশটি ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে খুনীরা। আমরা অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্থির দাবী জানাচ্ছি। নিহত ফাহিমা আক্তার লাল মনির হাট জেলার আদিত্য মাড়ী থানার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম ছাগলনাইয়া গ্রামের জমির উদ্দিন মিস্ত্রী বাড়ির ভাড়াটিয়া ছাগলনাইয়া পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মী নুর জামান বাবুলের মেয়ে।
Advertisement

ফেইসবুক লাইক
অন্যান্য পত্রিকা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ :
Image

ছাগলনাইয়া সংবাদদাতা: ছাগলনাইয়া (১৫ আগস্ট) বৃহস্পতিবার দিনভর আলোচনা বিস্তারিত

Image

ছাগলনাইয়া সংবাদদাতা: ছাগলনাইয়া থেকে প্রকাশিত মাসিক হায়দার পত্রিকার বিস্তারিত

Image

ছাগলনাইয়া সংবাদদাতা: ছাগলনাইয়া পৌরসভার ২০১৯-২০ইং অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বিস্তারিত

ছাগলনাইয়া সংবাদদাতা: ছাগলনাইয়ায় শিশু শিক্ষার্থীকে বলৎকারের অভিযোগে বিস্তারিত

ছাগলনাইয়া সংবাদদাতা: দশ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিস্তারিত

বিশেষ সংবাদদাতা, ছাগলনাইয়া: ছাগলনাইয়া উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য বিস্তারিত

ছাগলনাইয়া সংবাদদাতা: ছাগলনাইয়ায় অপহরণকারীর হাত থেকে বাঁচতে শনিবার (২৯ বিস্তারিত

বকুল আক্তার দরিয়া: ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিস্তারিত

প্রধান সম্পাদক : এস এম ইউসুফ আলী
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক
বার্তা সম্পাদক : এম ডি ফখরুল ইসলাম
তাসলিমা আক্তার লিমু কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।

হাজী শাহ আলম টাওয়ার (৪র্থ তলা), শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, ফেনী।

মোবাইল: ০১৮১২-১৫৯৯৬১, ০১৯১৯-১৫৯৯৬১, ০১৭১১ ৩৪১২৩৫

ই-মেইল : eusufpress@gmail.com, newsfenireport.com

Developed By: SBIT

© fenireport.com Site All Rights Reserved