পরশুরামে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে একাধিক সমবায় সমিতি উধাও

Image

পরশুরামে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে একাধিক সমবায় সমিতি উধাও

পরশুরাম সংবাদদাতা: পরশুরামে সমবায় সমিতির নিবন্ধন নিয়ে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করে একের পর এক উধাও হচ্ছে সমবায় সমিতির কথিত কর্মকর্তারা। সর্বশেষ গত ২/৩ মাস আগে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সুবার বাজারে রজনীগন্ধা সার্বিক উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের একটি সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা গ্রাহকের প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়ে রাতের আঁধারে উধাও হয়ে গেছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। গত কয়েক বছর আগে আত্মকল্যাণ সমবায় সমিতি ও প্রতীতি বহুমুখী সমবায় সমিতির কর্মকর্তারাও গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করার লক্ষে অফিসে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দেন। এই বিষয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মো নুরুল করিম রজনীগন্ধা সার্বিক উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমবায় সমিতি গঠন করেন এবং পাশ বইয়ের মাধ্যমে বাজারের ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকজন থেকে সঞ্চয়, এফডিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলে লাখ লাখ আমানত সংগ্রহ করেন। এছাড়াও অগ্রণী ব্যাংক সুবার বাজার শাখা থেকে ৮০হাজার টাকা ঋণ নেন। কিন্তু ২/৩ মাস আগে নুর করিম গ্রাহকদের টাকা নিয়ে গা ঢাকা দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীরা তাদের জমাকৃত টাকা ফেরত পেতে সহায়তা কামনা করে বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তা, উপজেলা সমবায় অফিসসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করেন। পরবর্তীতে বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তারা রজনীগন্ধা সমবায় সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে বন্ধ দেখতে পায় এবং চেয়ারম্যান নুরুল করিমের ব্যবহৃত নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়। বর্তমানে গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত মুলধন হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে এবং পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছে। সুবারবাজারের চা দোকানদার বাবুল জানান- তার কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকা সঞ্চয় আদায় করে বর্তমানে করিম অফিস বন্ধ করে পালিয়েছে। গ্রাহক মাওলানা ইউসুফ এর প্রায় দেড় লাখ টাকা, হাসান কসমেটিক্স এর ১ লাখ টাকা, রাখাল নামের আরেক ব্যবসায়ীর ৫০হাজার টাকা, উত্তম ২৯ হাজার টাকা, মমিনের ২০হাজার টাকাসহ অর্ধশত ব্যবসায়ীর প্রায় ২০লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে উধাও হয়ে গেছে রজনীগন্ধা সার্বিক উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এর চেয়ারম্যান। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক সুবার বাজার শাখার কাছ থেকে সমিতির নামে ৮০হাজার টাকা ঋণ নেয়ায় বর্তমানে সমিতির ঘরে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে ব্যাংক কর্মকর্তারা। অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম জানান- তার শাখা থেকে মো. নুরুল করিম ৮০হাজার টাকা ঋণ নিয়েছে। কিন্তু গত একমাস ধরে তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের অফিস সহকারী মনছুর জানান- রজনীগন্ধা সার্বিক উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড উপজেলা সমবায় অফিসের নিবন্ধকৃত একটি সমবায় সমিতি। সুবার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনজুরুল আলম জানান, ওই সমিতির প্রায় ৩৯জন সদস্য বাজারের ছোট-বড় ব্যবসায়ী। তাদের টাকা নিয়ে রজনীগন্ধার চেয়ারম্যান নুরুল করিম পালিয়ে গেছে বলে ব্যবসায়ী সমিতির নিকট অভিযোগ করেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জমান ভুট্টু রজনীগন্ধা সমবায় সমিতির কর্মকর্তা গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবহিত হয়েছেন বলে জানান। একইভাবে পরশুরাম বাজারের আত্মকল্যাণ সমবায় সমিতি গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে গত কয়েকবছর ধরে অফিস বন্ধ করে পালিয়ে গেছে। এছাড়াও প্রতীতি বহুমুখী সমবায় সমিতির গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করে সমিতির কার্যক্রম বন্ধ করে জুনিয়র স্কলার স্কুল প্রতিষ্ঠা করে, কিন্তু গ্রাহকদের টাকা এখনো পরিশোধ করেনি। জেলা সমবায় অফিস থেকে পরশুরাম উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানকে রিকোজেশান করতে লিখিত চিঠি দেয়া হয়।একাধিক সমবায় সমিতি এভাবে গ্রাহকদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করলেও উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে কোন ধরনের উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। উপজেলার পৌর এলাকার মো. মোস্তফা নামের এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী, বোনসহ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রতীতি বহুমুখী সমবায় সমিতি স্বত্তাধিকারী মিজানুর রহমান প্রায় ৩০ হাজার টাকা সঞ্চয় নিয়ে আত্মসাৎ করায় সভাপতির বিরুদ্ধে সমবায় কর্মকর্তা মিলন দাসের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিলেও সমবায় কর্মকর্তা গ্রাহকদের টাকা উদ্ধারে কোন সহযোগিতা না করে বরং বিভিন্ন অজুহাতে অভিযোগকারীকে হয়রানি করে যাচ্ছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তা মো. মোস্তফা অভিযোগ করেন। পরশুরাম উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মিলন কান্তি দাস জানান- রজনীগন্ধা সার্বিক উন্নয়ন সমবায় সমিতি নামের কোন প্রতিষ্ঠান আছে কিনা তার জানা নেই, গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ বিষয়টি লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাউরপাথর গ্রামের পুলিশ কর্মকর্তা মো. মোস্তফা তার পরিবারের সদস্যদের টাকা আদায়ের বিষয় লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়ার বিষয় মিলন কান্তি দাস কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
Advertisement

ফেইসবুক লাইক
অন্যান্য পত্রিকা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ :
Image

ফেনী রিপোর্ট ডেস্ক: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সাধারণ ছুটির দিনগুলোতে বিস্তারিত

Image

আই এফ আই সি ব্যাংক লিমিটেড'র নিলাম দরপত্র বিস্তারিত

Image

ছাগলনাইয়া সংবাদদাতা: করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ছাগলনাইয়া সীমান্ত হাট বিস্তারিত

Image

নিজস্ব সংবাদদাতা: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর ফেনী শাখার প্রথম বিস্তারিত

Image

নিজস্ব সংবাদদাতা: বীমা দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করার জন্য সরকার বিস্তারিত

Image

বিশেষ সংবাদদাতা: হুমায়ুন কবির খান, জাল টাকার একজন বড় কারবারি। এক যুগেরও বিস্তারিত

Image

নিজস্ব সংবাদদাতা: ফেনী শহরের ট্রাংক রোড়স্থ হীরা ফার্মেসীতে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্তারিত

Image

নোয়াখালী সংবাদদাতা: দুদকের মামলায় গ্রেফতার হয়ে ঢাকা ব্যাংক ফেনী শাখার ২৬ বিস্তারিত

প্রধান সম্পাদক : এস এম ইউসুফ আলী
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ওমর ফারুক
বার্তা সম্পাদক : এম ডি ফখরুল ইসলাম
তাসলিমা আক্তার লিমু কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।

হাজী শাহ আলম টাওয়ার (৪র্থ তলা), শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, ফেনী।

মোবাইল: ০১৮১২-১৫৯৯৬১, ০১৯১৯-১৫৯৯৬১, ০১৭১১ ৩৪১২৩৫

ই-মেইল : eusufpress@gmail.com, newsfenireport.com

Developed By: SBIT

© fenireport.com Site All Rights Reserved