শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ইং         ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
  • মেনু নির্বাচন করুন

    ৪ বছরেও ফেনীর ৭টি মডেল মসজিদের ৩টির কাজই শুরু হয়নি,পূর্নতা পায়নি বাকি ৪টিও


    প্রকাশিতঃ 19 Jan 2023 ইং
    ভিউ- 0
    শেয়ার করুনঃ

    ফেনী রিপোর্ট ডেস্ক : নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়াসহ নানা জটিলতায় থমকে গেছে ৪টি মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ। কাজ শুরুর সময় যে ব্যয় ধরে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছিল তা এখন বেড়ে প্রায় দিগুণ। ফলে  কাজ চলছে ধীরগতিতে। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, করোনা প্রাদুর্ভাব, নির্মাণকাজে ধীরগতিসহ নানা কারণে পরিপূর্ণতা পায়নি ফেনীর একটি মডেল মসজিদও। 

    ইসলামী ফাউন্ডেশনের (ইফা) ফেনী জেলা সূত্রে জানায়, মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে থাকছে নারী-পুরুষের পৃথক ওজুখানা ও নামাজ আদায় করার সুবিধা। এছাড়া লাইব্রেরী ও রিচার্স সেন্টার, সভা মিলনায়তন, অতিথিশালা, শিশু শিক্ষা, পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, ইমামদের প্রশিক্ষণ ও ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ নানা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। 

    ফেনীতে সরকারের মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত ৭টি মসজিদের মধ্যে বর্তমানে ৪ টির কাজ চলমান রয়েছে।অথচ, কার্যকাল শেষ হয়েছে আরও প্রায় দেড় বছর আগে। এছাড়া অন্য ৩টি মসজিদের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। 

    জেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হলে ২০১৯ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে মডেল মসজিদ নির্মানের দরপত্র আহবান করা হয়। জেলা মডেল মসজিদটি ১৪ কোটি ও প্রতিটি উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। 

    কিন্তু দরপত্রের সিডিউল অনুযায়ী কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো সম্পুন্ন শেষ হয়নি একটির কাজও। এর মধ্যে ফেনী জেলা মডেল মসজিদ প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি হয়েছে ৫৫%, উপজেলা পর্যায়ে ছাগলনাইয়ায় ৭৫%, ফুলগাজী ২৮% ও ফেনী সদর ২৬% কাজ হয়েছে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও কাজের তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

    বুধবার(১৮ জানুয়ারি) ফেনীর মহিপালস্থ সদর মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখা যায়, ২০২০ সালের ১৮ মার্চ ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। দীর্ঘ দুই বছর নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকলেও বর্তমানে ১৫/২০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন বলে জানান ঠিকাদার প্রতিনিধি সাইদ হোসেন। 

    তিনি চলতি বছরের শেষ দিকে মসজিদটি হস্তান্তর করা যাবে বলে জানান। মহিপালের স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উল্যাহ বলেন, মডেল মসজিদটি একটি আধুনিক সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন মসজিদ হবে। দেখে মন জুড়িয়ে যায়। কিন্তু নির্মাণ কাজ চলছে ধীরগতিতে। এখন কাজ শেষের অপেক্ষায় খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি কবে এ মসজিদে নামাজ পড়তে পারবো।
     
    ফেনী গণপূর্তের বিভাগ জানায়, চলমান কাজের মধ্যে ফতেহপুর এলাকায় জেলা মডেল মসজিদের ৪৮ শতাংশ, মহিপাল চৌধুরী বাড়ি সংলগ্ন সদর উপজেলা মডেল মসজিদের ১৯ শতাংশ, ফুলগাজী উপজেলার বিজয়পুর এলাকার মডেল মসজিদের ২৮ শতাংশ এবং ছাগলনাইয়া উপজেলা মডেল মসজিদের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। 

    সোনাগাজী, দাগনভূঞা ও পরশুরাম উপজেলায় মডেল মসজিদ প্রকল্প প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, সোনাগাজী এবং পরশুরাম উপজেলায় ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আগানো সম্ভব হয়নি। 

    তবে পরশুরামে ভূমি নির্ধারণ করে কাগজপত্র  এসেছে। মন্ত্রনালয় থেকে অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে। এছাড়া জেলার দাগনভূঞা উপজেলার মডেল মসজিদ প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহবানের প্রস্তুতি চলছে। 

    প্রকল্পে লোকসান হচ্ছে দাবি করে নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাজু এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী নূর নবী রাজু বলেন, আমাদের চলমান জেলার ৩টি মসজিদের নির্মাণ কাজের মধ্যে ফতেহপুর এলাকায় নির্মাণাধীন জেলা মডেল মসজিদের কাজ আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে শেষ হবে। 

    এছাড়া সদর উপজেলা ও ফুলগাজী উপজেলায় চলমান ২টি মসজিদের কাজ আগামী বছরের জুন মাসে শেষ হতে পারে। কাজের ধীরগতির কারণ তুলে ধরে মেসার্স রাজু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নূরনবী রাজু বলেন, প্রথমদিকে প্রকল্পের কাজ বুঝে নিয়ে শুরু করতেই বিলম্ব হয়। কাজ শুরুর পরেই বর্ষাকালের বৃষ্টিতে বিঘ্নিত হয়। পরে করোনার কারণে ঠিকভাবে কাজ করা যায়নি। 

    এদিকে প্রকল্পে টাকা ছাড় পেতে দেরী হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এখন নির্মাণ সামগ্রীর বাড়তি দামে লোকসানে কাজ করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মডেল মসজিদের জন্য আহ্বানকৃত দরপত্রের দরের সাথে বর্তমানে নির্মাণ সামগ্রীর দরের কোনো মিল নেই। 

    প্রকল্পের কাজ শুরু করার সময় ৫৮-৬২ টাকা দামের রড় এখন ৯৫ টাকা, ৩০০ টাকা দামের সিমেন্ট এখন প্রায় ৫৫০ টাকা ও ৮০ টাকা দামের পাথর এখন ২২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবুও আমরা নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে চেষ্টা করছি। 

     ইসলামী ফাউন্ডেশনের (ইফা) ফেনীর উপ-পরিচালক ইউসুফ আলী বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ শেষ করে আমাদের বুঝিয়ে দিলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে থাকছে নারী-পুরুষের পৃথক ওজুখানা ও নামাজ আদায় করার সুবিধা। 

    এছাড়া লাইব্রেরী ও রিচার্স সেন্টার, সভা মিলনায়তন, অতিথিশালা, শিশু শিক্ষা, পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, ইমামদের প্রশিক্ষণ ও ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ নানা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। 

    ফেনী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আকতার হোসেন বলেন, চলমান ৪টি মসজিদের কার্যকাল এক বছর আগে শেষ হলেও করোনার প্রভাবে এখনও কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার তাগাদা দিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের কার্যকাল আবার বর্ধিত করা হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে নির্মাণ সামগ্রীর উর্ধ্বগতিও কাজে প্রভাব পেলছে।

    প্রসঙ্গত, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পটি প্রথমদিকে বিদেশি অর্থায়নের সম্ভাবনা থাকলেও সেটি হয়নি। পরে সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে কাজ শুরু করে।


    আপনার মন্তব্য লিখুন
    © 2023 Feni Report.com All Right Reserved.